সংবাদ শিরোনাম:

চৌমুহনীতে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলে

মোস্তফা মহসিন,(নোয়াখালী) : নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সরকারী বিভিন্ন সংস্থার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের দখলে। জানাযায়, জেলার প্রধান বানিজ্যিককেন্দ্র বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে সরকারি হুকুমদখলকৃত, খাস ভূমি, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ভূমিসমূহ স্থানীয়ভাবে সকল রাজনৈতিক দলের ভূমিদস্যুরা মিলেমিশে পাইকারিহারে দখল করছে। ভূমি দপ্তরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারির সক্রিয় সহযোগিতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভূমিদস্যুদেরকে তাদের মালিকানার সমর্থনে কাগজপত্রও তৈরি করে দিচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নামে এসব ভূমি বরাদ্ধ থাকলেও ভৃমি দপ্তর থেকে ব্যক্তি মালিকানায় তা বন্দোবস্ত দিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা সদর দপ্তর নদীগর্ভে বিলীন হবার পর জেলা সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য চৌমুহনী শহরের করিমপুর,গনিপুর, আলিপুর, নাজিরপুর ও মিরওয়ারিশপুর মৌজায় ১৯৪১- ৪২ইং সনে ৬১০ একর ভূমি সরকার হুকুম দখল করে। পরে অনেক ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা সদর মাইজদিতে স্থাপন করা হয়। এসব ভূমির অর্ধেক পরিমান ভৃমিতে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মান করা হয়। বাদবাকী ভূমিগুলো ভূমি দপ্তরের রেকর্ডপত্রে সরকারের মালিকানা থাকলেও বাস্তবে ওইসব ভূমি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। এদিকে,চৌমুহনী শহরে বেশ কয়েকটি বড় বড় জলাশয় রয়েছে। বড় মসজিদ সংলগ্ন দীঘি, রুপভারতি সিনেমা হল সংলগ্ন দীঘি, রাম ঠাকুর আশ্রমের পাশের পুকুর, করিমপুর পুকুর, কুরি পাড়ার পুকুরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি পুকুর অবৈধ দখলদারদের গ্রাসে বর্তমানে পুকুরগুলির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। কিন্তু ভূমি দপ্তরের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির সরাসরি সহযোগিতায় ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে অবৈধ দখলদারদেরকে কাগজপত্র সৃজন করে দিচ্ছে। তাছাড়া দখলদারদের ভরাটকৃত খাল ও বিভিন্ন সরকারি খাসভূমি পেরিপেরি নকশা প্রস্তুত করে তা অনুমোদন করিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দিয়ে দেয়। খালগুলো ভরাট করে বহুতলা ভবন নির্মান করায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বর্ষা মৌসুমে চৌমুহনী শহরসহ বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, চাটখিল ও সোনাইমুড়ি উপজেলায় মারাত্বক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে শীতকালীন বোরো ফসল ছাড়া অন্য কোন ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না। অপরদিকে সরকারি হুকুম দখলকৃত ভূমি থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নামে বরাদ্ধ দিলেও তা ওই দপ্তর থেকে নিজেদের নামে খতিয়ান সৃজন করেনি। অথচ অর্ধ শতাব্দি ধরে ওইসব সরকারি দপ্তরের অবকাঠামো নির্মান করে কাজকর্ম চালিয়ে আসছে। খতিয়ান সৃজন না করার ফলে ওইসব ভূমি খাস ভূমি হিসেবে রেকর্ডপত্রে রয়ে যায়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভূমি দপ্তরের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি ভিন্ন পথ অবলম্বন করে ব্যক্তির নামে অনেক ভূমি বন্দোবস্ত দিয়ে দেয়। এ নিয়ে বর্তমানে অনেক সংস্থার মধ্যে ঝামেলা চলে আসছে। এ দিকে সড়ক সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্ত এনে দোকানপাট উঠিয়ে দখল করে নিচ্ছে। এখানে গনপূর্ত বিভাগের একটি ব্রিকফিল্ড ছিল তারও কোন চিহ্ন বর্তমানে নেই। তদুপরি ওই বিভাগের নিজস্ব জায়গাও ভৃমি দপ্তর ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দিয়ে দেয়। রেলওয়ে সুত্রে জানাযায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের চৌমুহনীতে ৪০ একর ভূমি রয়েছে। রেলওয়ের প্লাটফরম ও লাইন ছাড়া বাদবাকী ভূমি যে যেভাবে পারছে দখলে নিচ্ছে। রেল লাইন ঘেষেও অবৈধভাবে দোকানপাট উঠিয়ে দখল করে নিচ্ছে। কেউ কেউ রেলওয়ে থেকে বন্দোবস্ত নিলেও বে-আইনিভাবে বহুতলা ভবন নির্মান করছে। চৌমুহনীতে রেলওয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২২টি কোয়াটার থাকলেও এসব কোয়াটার বর্তমানে বহিরাগতদের দখলে।বর্তমানে এসব কোয়াটারে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক বিক্রেতাদের আখড়া হিসেবে গড়ে উঠেছে। চৌমুহনীতে সরকারি দপ্তরগুলোর ভূমি এভাবে বেদখল হলেও দেখার যেন কেউ নেই। এদিকে সরকারি হুকুম দখলকৃত ভূমি, খাস ভুমিতে এমনকি খালের মধ্যে দিন দিন বহুতল ভবন নির্মান করা হচ্ছে নির্বিঘেœ, কেউ যেন দেখার নেই। উপরন্ত এসব অবৈধ দখল পাকাপোক্ত করার জন্য প্রশাসন এর সাথে ভেতরে ভেতরে নানা কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা।এ ব্যাপারে গনপূর্ত বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ,পানি উন্নয়ন বিভাগের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সরকারিভাবে অনুমোদন নিয়ে অর্ধ-শতাব্দি ধরে স্থাপনা নির্মান করে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর তাদের দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে আসছে। ওইসব ভূমি রেজিষ্ট্রি করার সময় এল টি ফি প্রদান করা হয়েছে তাতে ভূমি অফিসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খতিয়ান সৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় বর্তমানে ওইসব ভুমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে চৌমুহনী পৌর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন জানান, খাস খতিয়ানে ভূমিগুলো রেকর্ড থাকার কারনে বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া পেরিপেরি নকশা ও খালের ভূমিও আমার পূর্বত্বন কর্মকর্তাগন বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করেছেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তফা জাবেদ কায়সার জানান, সরকারি ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন মহলের অভিমত সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন জেলা প্রশাসনকে যেভাবে বুঝাবে জেলা প্রশাসন সেভাবেই কাজ করবে,অবৈধ দখলদাররা এতই শক্তিশালী যে এমতাবস্থায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া চৌমুহনী শহরে কোটি কোটি টাকার সরকারি ভৃমি ও খাল দখলমুক্ত করা যাবে না বলে অভিঞ্জ মহলের ধারনা।

Comments

comments

নিউজটি 57 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশক : আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক : শেখ আঃ সালাম
নির্বাহী সম্পাদক : জি এম হেদায়েত আলী টুকু
যুগ্ন-সম্পাদক : মুন্সী রেজাউল করিম মহব্বত
উপদেষ্টা : জি এম ইমদাদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
অফিস : ফকিরবাড়ীর মোড়,কপিলমুনি বাজার,পাইকগাছা,খুলনা।
মোবাইলঃ ০১৭১৬১৮৪৪১১,০১৭১৩৬৩৪০৫৩

E-mail: dainikkapotakho@gmail.com